। সারারাত কেটে যায় এইসব ভেবে।। পর্ব ৫।
দুর্গাপুজো আর আমার আধুরি প্রেম :
পুজো আসছে। আর মাত্র এই কটা দিন। সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই এই রকম পোস্ট চোখে পড়ছে। পুজো মানেই কাজ থেকে মুক্তি। রানাঘাট শহরটা আলোতে সেজে উঠবে। চেনা - অচেনা হাসিমুখ ,একরাশ মানুষের ভিড়। ঢাকের আওয়াজ , ধুনোর গন্ধ - সব মিলিয়ে মন খারাপ হওয়ার কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।
পুজো আসলেই যে কথাটা আসে তা হলো " পুজো প্রেম "। আর সেই কথাটা মনে আসলেই পিছিয়ে যাই দশ বছর। আর এই দশ বছর আগে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে আমি বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়ার সময় বলি " এই তো সেদিনের কথা "।
নস্টালজিয়া নিয়ে আমার এতো মাথা ব্যথা নেই। জীবনে চলার পথে কত কিছুই তো হয়। তবু সামনে এগিয়ে যেতে হয়। এই তো রীতি। কিন্তু এমন কিছু ঘটনা থাকে , এমন কিছু গল্প থাকে যা মনের ভিতরে বাঁধা পড়ে থাকে। প্রায় প্রতিটা পুজোতে সেই গল্প গুলো আমার ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। জুড়ে থাকে ঘরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে।
কোনো এক পুজোতে হঠাৎ অষ্টমীর সন্ধ্যে বেলা আমি ফোন করে বলে ছিলাম " কিরে ঘুরতে নিয়ে যাবি ? " সেই দিনটা খুব ভালো কেটেছিল।লাইন দিয়ে ঠাকুর দেখা , ফুচকা খাওয়া , প্রচন্ড ভিড়ের মাঝেও একে ওপরের আঙ্গুল খুঁজে নেওয়া , প্রথম হাত ধরা , আর সব শেষে চিলড্রেন্স পার্কের পিছনের গলিতে অন্ধকারে আলতো করে ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়া।
সব মনে আছে স্পষ্ট। যেন কালকেরই ঘটনা। এখনো পুজোর সময়ে চিলড্রেন্স পার্কের পিছনের সেই গলিটা তে গেলে চোখের সামনে সিনেমার রীলের মতো সব চলতে থাকে। পরিবর্তন মাত্র একটাই হয়েছে। অন্ধকার গলিটা তে এখন আলো এসেছে , কয়েকটা বাড়ি বেড়েছে। জায়গাটা চুমু খাওয়ার যোগ্য নেই।
আমাদের সেই গল্পটা এখন আমার হয়ে গেছে। শুধু " আমার "। সেই দিনগুলোতে তোকে হারানোর ভয় ও ছিল না। তবু কেন বলতো আমাদের ওই সব ঠিক সময়গুলো সব " ভুল " হয়ে যেত লাগলো ? এই পুজোতে তুই হয়তো তোর বর্তমান বান্ধবীর সাথে বের হবি , আমি হয়তো বাড়িতেই থাকবো কিংবা বের হলেও সেই গলিটা দিয়ে যাবো না।
তবুও আজ ও পুরো পুজো জুড়ে একবার হলেও সেই দিনটার কথা খুব মনে পড়ে। এবার ও পড়বে। আমি জানি , তোর ও কোথাও না কোথাও গিয়ে আমার কথা মনে পড়ে।
( ** ঠাকুর দেখা আর ফুচকা খাওয়া ছাড়া সব মিথ্যে , বানানো )



Comments
Post a Comment