‘দেয়ার ওয়াজ ফ্রিদা ইন দি এয়ার।
ফ্রিদা টি-শার্ট, ফ্রিদা ব্যাগ, ফ্রিদা হেয়ারব্যান্ড, ফ্রিদা ড্রেস মেটেরিয়াল, ফ্রিদা ব্লাউস -- সব জায়গায় দেখে আমি খুজেছিলাম , এই ফ্রিদা কে ? তারপর সালমা হায়েক অভিনীত হলিউডের ছবি ‘ফ্রিদা’ ছবিটা দেখলাম। তার আগে অবশ্য ওঁর আঁকা ছবি ইন্টারনেট এ প্রচুর দেখেছি।
আন্দ্রের মতে: ‘The art of Frida Kahlo is a ribbon around a bomb’। আমার তো মনে হয় , উনি যদি peace and beauty র প্রতীকও হতেন , তবুও তিনি আমাদের মাথার মধ্যে ফাটঁছেন। ওই যে একটা বিখ্যাত গানের লাইন আছে ,
তুমি বুকের ভেতর ফাটছো আমার
শরীর জুড়ে তোমার প্রেমের বীজ।
সে যাই হোক , ‘মাই ড্রেস হ্যাংস দেয়ার’ ছবিটা দেখে রীতিমতো চমকে উঠে ছিলাম। ওটাই মনে হয় , আমার দেখা ওঁর প্রথম ছবি।
ত্রোৎস্কির হত্যা, নানান ব্যাধি, অসংখ্য অপারেশন ও আমেরিকায় অসফল অস্ত্রোপচার -- এই সময়েই ফ্রিদা সব থেকে বেশি কাজ করেছেন। এঁকেছেন ‘দ্য ব্রোকেন কলাম’, ‘দ্য লিটল ডিয়ার’, ‘দিয়েগো ইন মাই থটস’ এবং ‘দিয়েগো অ্যান্ড আই’। ভাবা যায় , যে সময়ে মানুষএর সব থেকে বেশি মুষড়ে পড়ার কথা , সেই সময়ে উনি ওনার বেস্টটা দিয়েছেন। একই হয়তো শিল্পী বলে।
১৯০৭-এ জন্ম, বাবা মেক্সিকান, মা জার্মান,ছেলেবেলায় পোলিওয়ে আক্রান্ত হন। একাধিক সম্পর্ক , রিভেরার সঙ্গে দুই বার বিয়ে , প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা । সেই দুর্ঘটনায় একটি রড তাঁর শরীরের বাঁদিক দিয়ে গিয়ে তাঁর যোনি দিয়ে বেরিয়ে যায়। এই দুর্ঘটনার পরে সবাই ভাবে উনি বোধহয় মারা যাবেন , কিন্তু উনি বেঁচে থাকেন।
হয়তো বেঁচে ছিলেন আমাদের শেখানোর জন্য। তার জীবন দিয়ে আমরা শিখতে পারি কিভাবে মানুষকে ভালো বাসতে হয়। আমাদের প্রতিদিনের চলার মধ্যে ফ্রিদা আছেন , আমরা যারা ছবি আঁকি , তাদের ছবি আঁকার মধ্যেও ফ্রিদা আছেন। যাবতীয় নঞর্থক ভাবনার মধ্যে তিনি খুঁজতে চেয়েছেন সম্ভাবনার বীজটুকুকে। আর তাই হাল ছাড়েননি। সারাজীবন শিল্পের হাত ধরে চলেছেন জীবনের খোঁজে।
জুলাই ৭ , ২০২৬
-- ঐশ্বর্য



Comments
Post a Comment